তেহরানে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ইরানের খেলোয়াড়দের।
তেহরানে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ইরানের খেলোয়াড়দের।   ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তবে সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা পেয়েছে দেশটির জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও সেখানে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলাকে ঘিরে নানা শঙ্কা থাকলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়েরা মঞ্চে উঠে দেশপ্রেমমূলক বক্তব্য দেন এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। একই সঙ্গে উন্মোচন করা হয় ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ইরান দলের নতুন জার্সি।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহেদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে এবারই খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে বড় ও সেরা বিদায় সংবর্ধনা পেল।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা জনগণের সঙ্গেই আছে। দেশের মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। ফল যাই হোক, বিশ্বমঞ্চে ইরানের পতাকা যেন সম্মানের সঙ্গে উড়তে থাকে।’

তবে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপযাত্রা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেননি মেহেদি তাজ। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কানাডার মতো যুক্তরাষ্ট্রও আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়টি এখন ফিফার ওপরই ছেড়ে দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।

এফএফআইআরআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল হেদায়াত মোমবেয়িনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘ভিসা–সংক্রান্ত কোনো বার্তা এখনো পাইনি। তবে আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আশা করি, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে এবং খেলোয়াড়েরা যথাসময়ে ভিসা পাবেন।’

সম্প্রতি ইরাকের কয়েকজন ফুটবলারকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইরানের উদ্বেগ আরও বাড়ে। যদিও পরে হোয়াইট হাউস ও ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন খবরটি অস্বীকার করে।

এ প্রসঙ্গে মোমবেয়িনি বলেন, ‘আমিও খবরটি শুনেছি। আশা করি, ফিফা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের প্রবেশ নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৯ মে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইরান। তুরস্ক সফরে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও করছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।