পাওলো দিবালা।
পাওলো দিবালা।   ছবি: সংগৃহীত

তবে কি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাওলো দিবালার জন্য? ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘোষিত আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের। এরপর থেকেই আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।

লিওনেল স্কালোনির দলে সর্বশেষ ২০২৪ সালে দেখা গিয়েছিল দিবালাকে। এরপর আর ডাক পাননি ৩২ বছর বয়সী এই প্লে-মেকার। এবার বিশ্বকাপের প্রাথমিক তালিকাতেও নাম না থাকায় তার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

আগামী বিশ্বকাপেও লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করেই দল সাজাতে চাইছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে স্কালোনির সাম্প্রতিক স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তরুণদের প্রতি তার আস্থা। এখনো জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি—এমন কয়েকজন ফুটবলারও জায়গা পেয়েছেন প্রাথমিক তালিকায়। যদিও ৫৫ সদস্যের এই স্কোয়াড চূড়ান্ত নয়; ৩০ মে’র মধ্যে ২৬ সদস্যের মূল দল ঘোষণা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

দিবালার বাদ পড়া খুব একটা অপ্রত্যাশিতও নয়। চোটের সঙ্গে দীর্ঘদিনের লড়াই এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। মার্চে হাঁটুর মেনিস্কাস ইনজুরির কারণে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাকে। চলতি মৌসুমে রোমার হয়ে ২৫ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল, সঙ্গে ৫টি অ্যাসিস্ট। ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী ৩০ জুন রোমার সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে স্কালোনির নতুন পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। দীর্ঘদিন পর প্রাথমিক দলে ফিরেছেন আলেহান্দ্রো গার্নাচো। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো এবং জিরোনার ক্লদিও এচেভেরিওও রয়েছেন আলোচনায়। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়েই ভবিষ্যতের দল গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন স্কালোনি।

দিবালার মতো জাতীয় দলের বাইরে রয়ে গেছেন আনহেল কোরেয়া ও ভ্যালেন্টিন কাস্তেয়ানোসও। তাদের বদলে সুযোগ পেয়েছেন মাতেও পেলেগ্রিনো ও মাতিয়াস সুলে।

এবারের স্কোয়াডে বেশ কিছু নতুন মুখও চমক হয়ে এসেছে। হামবুর্গের মিডফিল্ডার নিকোলাস কাপুলদো, গেতাফের ডিফেন্ডার জায়েদ রোমেরো এবং পারমার স্ট্রাইকার মাতেও পেল্লেগ্রিনো প্রথমবার ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। এ ছাড়া বেনফিকার তরুণ মিডফিল্ডার জিয়ানুকা প্রেস্তিয়ানিকেও রাখা হয়েছে তালিকায়। যদিও সম্প্রতি বৈষম্যমূলক ও হোমোফোবিক মন্তব্যের অভিযোগে উয়েফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগেও নতুনদের প্রতি আস্থা রেখেছেন স্কালোনি। মিলতোন দেলগাদো ও থমাস আরান্দার মতো তরুণদের জায়গা হয়েছে প্রাথমিক দলে। ফিরেছেন গিদো রদ্রিগেজ, নিকোলাস ডমিঙ্গেজ, আনিবাল মোরেনো ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়াও।

গোলরক্ষকদের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক রিভার প্লেটের তরুণ সান্তিয়াগো বেলত্রান। ছয় গোলকিপারের প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তিনি। যদিও তার সামনে রয়েছেন অভিজ্ঞ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, ওয়াল্টার বেনিতেজ ও ফাকুন্দো কাম্বেসেস।

১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে স্কালোনির চূড়ান্ত স্কোয়াডে আরও চমক থাকছে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।