৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল।
৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল।   ছবি: অন ফিল্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়ের নাম লিখলেন মুমিনুল হক। দেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে সাদা পোশাকে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল।

দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসার নাম মুমিনুল। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তাঁকে অনেকেই বাংলাদেশের অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই টেস্ট সংস্করণে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য দেখিয়ে আসা এই ব্যাটসম্যান অবশেষে ছুঁয়ে ফেললেন মর্যাদাপূর্ণ ৫০০০ রানের মাইলফলক।

মাইলফলকের ম্যাচে বরাবরের মতোই ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেছেন মুমিনুল। ইনিংস গড়ার পথে ছিল তাঁর পরিচিত স্কয়ার কাট, দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ আর স্পিনারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ফুটওয়ার্ক। ব্যক্তিগত অর্জনের দিনে দলের ইনিংসও এগিয়ে নিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ব্যাট হাতে সবচেয়ে ধারাবাহিকদের একজন মুমিনুল। দেশের হয়ে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরির তালিকাতেও তিনি আছেন ওপরের দিকে। বিশেষ করে ২০১৩ থেকে ২০২১ সময়টা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি। একের পর এক সেঞ্চুরি করে হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ‘মিস্টার টেস্ট’।

৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পথে মুমিনুল খেলেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁর কয়েকটি শতরান এখনও বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের স্মরণীয় অংশ হয়ে আছে। কঠিন সময়ে দলের হাল ধরার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এই অর্জন নিঃসন্দেহে বিশেষ এক মাইলফলক। কারণ দেশের ক্রিকেটে সীমিত ওভারের জনপ্রিয়তার ভিড়ে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করেই নিজের নাম তুললেন এলিট এক তালিকায়।

মুশফিক ও তামিমের পর এখন পাঁচ হাজারি ক্লাবে মুমিনুল। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে থাকল এই অর্জনে।

চলছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রথম টেস্ট। সেই ম্যাচে এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান। শান্ত ৫১* মুশফিকুর রহিম ৯* , মুমিনুল ৫৬।