পিএসএল ফাইনালে জয়ের মাধ্যমে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন  বাবর আজম।
পিএসএল ফাইনালে জয়ের মাধ্যমে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন বাবর আজম।   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ফাইনালে জয়ের মাধ্যমে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন পাকিস্তানি তারকা ব্যাটার বাবর আজম। রোববার (৩ মে) রাতে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তার দল পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে হারায় হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে।

গত মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে প্লে-অফে জায়গা পায়নি পেশোয়ার। ২০২২ সাল থেকে নেতৃত্বে থাকলেও বাবর তখন পর্যন্ত কোনো শিরোপা এনে দিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক আসরেও সাফল্য ছিল অনুপস্থিত। তবে এবারের আসরে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে শিরোপা এনে দেন তিনি।

ফাইনালের পর ট্রফি হাতে বাবর বলেন, “ভাগ্যে যা লেখা থাকে, তা একসময় না একসময় পাওয়া যায়। ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয় এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হয়।”

মাঠে নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন দারুণ ছন্দে। আগের মৌসুমে ১০ ম্যাচে ২৮৮ রান করে ফর্ম হারালেও এবার তিনি দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন। পিএসএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর প্রশ্নের মুখে পড়লেও এবারের আসরে সব সমালোচনার জবাব দেন বাবর। ১২ ইনিংসে ১৪৫.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৫৮৮ রান করে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি—যা আগে ছিল ফখর জামানের দখলে।

এই আসরে দুটি সেঞ্চুরিও করেন বাবর। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫২ বলে শতক হাঁকিয়ে নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। পাশাপাশি উসমান খানের সঙ্গে যৌথভাবে পিএসএলে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডেও নাম লেখান।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাবর বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী না খেলতে পারলেও সময় নিয়ে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে উন্নতি করেছেন তিনি। পরিবার, বন্ধু ও কোচদের সমর্থন তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে বলেও জানান এই ব্যাটার।

জীবনকে রোলার কোস্টারের সঙ্গে তুলনা করে বাবর বলেন, ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা থেকেই শেখা যায়। টি-টোয়েন্টিতে ফর্মে ফেরার পর তিন ফরম্যাটেই খেলার বিষয়ে তিনি আবারও আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, লাল বলের ক্রিকেট একজন ব্যাটারের ধৈর্য ও সক্ষমতা বাড়ায়, যা সাদা বলের ক্রিকেটেও কাজে লাগে।