মাইকেল ক্যারিকের  স্বাভাবিক উদযাপন।
মাইকেল ক্যারিকের স্বাভাবিক উদযাপন।   ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩–২ গোলে লিভারপুলকে হারিয়েছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে এই জয়ের মাধ্যমে দুই মৌসুম পর আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি।

ম্যাচের শুরুটা দারুণ ছিল ইউনাইটেডের। ম্যাথিউস কুনহা ও বেঞ্জামিন সেসকোর গোলে প্রথমার্ধেই ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় লিভারপুল। ডমিনিক সোবোসলাই ও কডি গাকপোর টানা দুই গোলে সমতায় ফেরে তারা।

শেষ দিকে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই নাটকীয় মুহূর্ত উপহার দেন কোবি মাইনু। তাঁর গোলেই ৩–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ইউনাইটেডের।

এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার লক্ষ্য পূরণ হয় ম্যানইউর। ম্যাচটি থেকে এক পয়েন্ট পেলেই চলত, তবে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই শীর্ষ পাঁচে জায়গা নিশ্চিত করে তারা। জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাইকেল ক্যারিকের অধীনে দারুণ ছন্দে আছে দলটি। তাঁর কোচিংয়ে ১৪ ম্যাচে ১০ জয় পেয়েছে ইউনাইটেড।

অন্যদিকে, লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ওঠার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। একই দিনে ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারিয়ে শীর্ষ পাঁচের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এএফসি বোর্নমাউথ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিকের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ওঠার পরও তিনি বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাননি। বরং নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই বলেছেন এই কোচ।

ক্যারিক বলেন, “আমি যা করছি, সেটা উপভোগ করছি। এই অবস্থানটা আমার জন্য দারুণ, আর সত্যি বলতে এটি আমার কাছে বেশ স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে।”

দলের অর্জন নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, সামনে কী হয় দেখতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আমাদের থেকে কিছুটা দূরে ছিল। তখন লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ফেরা। তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই সেটি নিশ্চিত করা অবশ্যই বড় অর্জন।”

তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না ক্যারিক। তাঁর চোখ আরও বড় সাফল্যের দিকে। তিনি বলেন, “এটি অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা এটাকে ছোট করে দেখছি না। উন্নতির অনেক দিক আছে এবং আমরা আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স চাই। এখান থেকেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”