যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।   ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল শনিবার (২ মে) থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করবে ক্রীড়া পরিদপ্তর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উদ্যোগটিকে দেখা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকবেন তারেক রহমান। তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রতিযোগীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসূচির সূচনা করবেন।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা, বাছাই করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দলগত চেতনা, নেতৃত্বগুণ ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবারের আয়োজনে আটটি ইভেন্ট রাখা হয়েছে-ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট। গত ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন ছেলে এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন মেয়ে। সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে সিলেট জেলা থেকে, এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দল গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত চলবে আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, সুসংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হবে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরা খেলোয়াড়েরা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে।

তিনি আরও জানান, পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে-ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি পর্যায়ে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি কাজ করছে, যাতে কোনো প্রতিভা অবমূল্যায়িত না হয়।

খেলার ধরন অনুযায়ী প্রতিযোগিতার পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সুইস লিগ পদ্ধতি এবং অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বে ফল নির্ধারণ করা হবে।

অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে ভাতা, জার্সি ও সনদপত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং বিকেএসপিতে ভর্তির সম্ভাবনা। মেধাবী খেলোয়াড়দের ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে এবং আঞ্চলিক বিকেএসপি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় মেডিকেল টিমও থাকবে। অতীতের সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তন আনতে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে নতুন দিক উন্মোচনের একটি উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।