ট্রফি হাতে নিউজিল্যান্ড ক্যাপ্টেন  টম লাথাম (বামে) এবং বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন লিটন কুমার দাস(ডানে)।
ট্রফি হাতে নিউজিল্যান্ড ক্যাপ্টেন টম লাথাম (বামে) এবং বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন লিটন কুমার দাস(ডানে)।   ছবি: সংগৃহীত

টি–টোয়েন্টিতে গত এক বছরে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ দলকে দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব। ভয়ডরহীন ক্রিকেট-এই এক মন্ত্রেই এগিয়ে চলেছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে। ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল

আজ একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের সুযোগ, আর নিউজিল্যান্ডের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আবারও আক্রমণাত্মক মানসিকতায় মাঠে নামতে চায় লিটন দাস-এর দল। টিম ম্যানেজমেন্টও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে-পরিস্থিতি যেমনই হোক, খেলতে হবে নির্ভীক ক্রিকেট।

ম্যাচের আগে বৃষ্টিভেজা দিনটা বিশ্রামেই কেটেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। তবে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রথম ম্যাচে বোলারদের অবদানের কথা। পাওয়ারপ্লেতে ৬৬ রান তোলার পরও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রণেই থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস, যা বড় লক্ষ্য গড়তে দেয়নি কিউইদের।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড পুরোপুরি বিশ্রামে ছিল না। বৃষ্টির মধ্যেই কয়েকজন ক্রিকেটার ইনডোরে অনুশীলন করেছেন। আজও বৃষ্টির শঙ্কা আছে, যদিও প্রথম ম্যাচেও এমন পূর্বাভাস ছিল।

অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সিরিজ জয়ের রেকর্ড ইতিমধ্যেই নিজের করে নিয়েছেন লিটন দাস। আজ তাঁর সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ। তাঁর নেতৃত্বেই টি–টোয়েন্টিতে বদলে যাওয়া এক নতুন বাংলাদেশের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

প্রথম ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেনশামীম হোসেন-এর ঝোড়ো ইনিংস ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। হৃদয়ের ২৭ বলে ৫১, পারভেজের ১৪ বলে ২৮ এবং শামীমের ১৩ বলে ৩১ রানের ইনিংস ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।

বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে রান তাড়ায় ৪ থেকে ৬ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানদের এমন কার্যকর পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা গেছে। শেষ ১০ ওভারে ওভারপ্রতি ১০–এর বেশি রান তুলে ম্যাচ জেতার ঘটনাও বিরল।

আজকের ম্যাচে একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। প্রথম ম্যাচে অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপ কিছুটা চাপে পড়লেও সিরিজ জয়ের ম্যাচে ঝুঁকি নিতে চাইবে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

এই ম্যাচ শুধু সিরিজ জয়ের নয়, গত এক বছরে টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের উন্নতির ধারাকে ধরে রাখারও পরীক্ষা। তানজিদ হাসান, পারভেজ, শামীম, হৃদয়দের মতো তরুণরা এখন নিয়মিত পারফর্ম করছেন। আর বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা তো আছেই।

প্রত্যাশার পারদ তাই ওপরে উঠছে-ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে আজই হয়ে যাক সিরিজ জয়ের উৎসব।