টি–টোয়েন্টিতে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, এবার লক্ষ্য আরও বড় মঞ্চ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-২০ ম্যাচে জাতীয় সংগীত চলমান অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।   ছবি: সংগৃহীত

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন এক নতুন বাংলাদেশ এই কথাটা আর নতুন নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সেটাই যেন প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে উঠছে। গত বছরই এই সংস্করণে নিজেদের প্রায় সব রেকর্ড নতুন করে লিখেছে বাংলাদেশ। এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি জয়, ছক্কা, স্ট্রাইক রেট কিংবা বোলিংয়ে উইকেট সব ক্ষেত্রেই ২০২৫ সাল ছিল বাংলাদেশের।

এই পরিবর্তনের শুরুটা শুধু পরিসংখ্যানে নয়, খেলায়ও। আগে যে টি–টোয়েন্টি সংস্করণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে গত বছর টানা চার সিরিজ জিতে ভিন্ন এক পরিচয় তৈরি করেছে দলটি।

দলের ভেতরেও এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন প্রজন্মের ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন এখন দলের অন্যতম ভরসা। তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেনও নিজেদের নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ দল।

এই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন দেখা গেল সর্বশেষ ম্যাচে। ঘরের মাঠে রেকর্ড ১৮২ রান তাড়া করে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই জয়ের গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, ম্যাচের পরিস্থিতি সামলে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল, সেটাই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে ফেরান তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন। পাওয়ারপ্লের পরের ৮ ওভারে ওভারপ্রতি ১০-এর বেশি রান তোলা যেকোনো মানদণ্ডেই যা প্রশংসনীয়।

ম্যাচ শেষে তাওহিদ হৃদয় বলেছেন, “ভালোর তো শেষ নেই। সবাই নিজের জায়গা থেকে ভালো করার চেষ্টা করে। অনেক দিন ধরে আমরা একসঙ্গে খেলছি, বোঝাপড়াও ভালো। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল, আমরা চাপটা নিইনি।”

হৃদয়ের মতে, এমন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জিততে পারলে দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এখন এ ধরনের ম্যাচ জেতানো দলের জন্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের গঠনও বলছে, এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি শক্ত। নবাগত দুজন ছাড়া বাকি প্রায় সবাইই অভিজ্ঞ। টি–টোয়েন্টির ছন্দ ও চাহিদা এখন তাদের কাছে পরিচিত বাস্তবতা।
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ছন্দটা তাই সবাই বুঝতে শিখেছেন এত দিনে। 

হৃদয় বলছেন এখন তাই তাঁদের জন্য দায়িত্বই হয়ে গেছে এমন ম্যাচ জেতানো, ‘এ রকম ম্যাচ যদি আমরা না জেতাতে পারি, তাহলে তো এটা আমাদের জন্য এটা ভালো সাইন না। এগুলোতে ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে।’

তা হৃদয়রা পেরেছেনও। বছরের প্রথম টি-টুয়েন্টি খেলতে নেমে তাঁরা দিয়েছেন ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত—লম্বা পথে হোঁচট না খেয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।