ক্রিকেট ঈশ্বর শচীনের জন্মদিন আজ।
ক্রিকেট ঈশ্বর শচীনের জন্মদিন আজ।   ছবি: সংগৃহীত

অনেকের কাছে তিনি ‘ক্রিকেটের বরপুত্র’, আবার কারও চোখে ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’। শচীন টেন্ডুলকার নামটি উচ্চারণ হলেই যেন স্টেডিয়ামে ভেসে ওঠে জনসমুদ্রের গর্জন। ক্রিকেটের ইতিহাস লিখতে বসলে যার নাম ওপরের সারিতেই থাকবে, আজ (২৪ এপ্রিল) সেই কিংবদন্তির ৫২তম জন্মদিন।

১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম শচীন রমেশ টেন্ডুলকারের। বাবা রমেশ টেন্ডুলকার ছিলেন সাহিত্যিক, মা রজনী টেন্ডুলকার গৃহিণী। শোনা যায়, ভারতীয় সুরকার শচীন দেব বর্মণের নামানুসারেই ছেলের নাম শচীন রাখেন তার বাবা রমেশ।

শচীনের ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় শিবাজী পার্কে, কোচ রমাকান্ত আচরেকারের তত্ত্বাবধানে। স্কুলজীবনেই ব্যাট হাতে কাটিয়েছেন অসংখ্য ঘণ্টা। সহপাঠীরা যখন ছুটিতে বেড়াতে যেত, তখন শচীনের ঠিকানা ছিল নেট প্র্যাকটিস। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি এই নিবেদনই যেন তাকে লিখে দিয়েছে এক মহাকাব্যের নায়ক হওয়ার নিয়তি।

মাত্র ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে, ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, আর সামনে তখনকার ভয়ংকর সব বোলার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, ইমরান খান ও আবদুল কাদির। অভিষেক টেস্টে খুব বড় কিছু করতে না পারলেও, ফয়সালাবাদে পরের ম্যাচেই ৫৯ রানের ইনিংসে জানান দেন-এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে শুরুটা ছিল আরও কঠিন। প্রথম দুই ম্যাচেই শূন্য! প্রথম সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৯ ম্যাচ পর্যন্ত। কিন্তু একবার ছন্দে ফেরার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটারদের একজন।

বিশ্বকাপ মঞ্চে তার যাত্রা দীর্ঘ ও নাটকীয়। ১৯৯২ থেকে ২০০৭—টানা পাঁচ বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি। তবে আক্ষেপ ঘোচে ২০১১ সালে। অবশেষে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে তার হাতেই। ২০০৩ বিশ্বকাপে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’, ১৯৯৬ ও ২০০৩ আসরে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক-সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও এক অনন্য নাম শচীন।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সময় বাবার মৃত্যু-ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন মুহূর্তেও দায়িত্ববোধে অনড় ছিলেন তিনি। দেশে ফিরে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেন এবং ইংল্যান্ডে ফিরে খেলেন স্মরণীয় এক ইনিংস। এই দৃঢ় মানসিকতাই তাকে আলাদা করে দেয়।

২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিজের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেন এই ব্যাটার। যদিও সাকিব আল হাসানের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সেই ম্যাচে জয় পায়নি ভারত।

সংখ্যার বিচারে তিনি এক বিস্ময়। ৬৬৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান, শত সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি-যা আজও এক মাইলফলক। ২০১৩ সালে ক্রিকেটকে বিদায় বললেও, শচীন মানেই আজও আবেগ, অনুপ্রেরণা আর এক অবিনশ্বর গল্প।

ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে তাই তিনি আজও অম্লান-শুভ জন্মদিন, লিটল মাস্টার।