নেইমার জুনিয়র
নেইমার জুনিয়র   ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমার, যিনি দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে খ্যাত (৭৯ গোল), সম্প্রতি নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুর কঠিন সময়ের কথা উন্মুক্তভাবে শেয়ার করেছেন। বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এই ফরোয়ার্ড, এবং নিজের ইউটিউব চ্যানেলে জীবনের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ করেছেন।

নেইমার জানিয়েছেন, তিনি যখন ১৩-১৪ বছরের কিশোর ছিলেন, তখন সাধারণ স্কুল জীবনের ছুটি বা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো থেকে নিজেকে আলাদা রাখতেন। স্কুলের ভ্রমণে যেতেন না, সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যেতেন না, কারণ পরদিন সকালে কঠোর অনুশীলন থাকত। 

তিনি স্বীকার করেন, আমি ভাবতাম সব বন্ধুরা মজা করছে, আর আমি বাড়িতে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু একটা লক্ষ্য ছিল, একটা কারণ ছিল, সেটা আমি বুঝতাম। বিরক্ত লাগত, কিন্তু পরদিন মাঠে নামার সুযোগ পেলে সব ভুলে যেতাম।

বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও অর্থ উপার্জনের পরও নেইমার মাঝে মাঝে স্বাভাবিক ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। তিনি বলেন, আমি ২০ বছর ধরে এই জীবনযাপন করছি। একজন খেলোয়াড় হওয়ার এটাই মূল্য। এটা কঠিন। ব্রাজিলে বিষয়টা আরও কঠোর, মানুষ আপনাকে সমালোচনা করে, ভুলে যায় আপনি একজন সাধারণ মানুষও।

নেইমার আরও যোগ করেন, এটা সত্যিই কঠিন। আমি কৃতজ্ঞ, কারণ আমি এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি, কিন্তু আমিও একজন মানুষ। এর পাশাপাশি তিনি প্রকাশ করেছেন যে, সম্প্রতি চোটের কারণে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। “আমিও কষ্ট পাই, ব্যথা অনুভব করি, খারাপ মুডে ঘুম থেকে উঠি, কাঁদি, রাগ করি, আবার খুশিও হই; সবই স্বাভাবিক,” বলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

এভাবে নেইমার আমাদের সামনে ফুটবলের পেছনের কঠোর পরিশ্রম, ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং মানুষের সাধারণ অনুভূতির প্রতি তার সংবেদনশীল দিকটি উন্মুক্ত করেছেন, যা তাকে শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও পরিচিত করে।