জোনাথন ট্রট, আফগান কোচ, টি টোয়েন্টি
জোনাথন ট্রট   ছবি: সংগৃহীত

আবেগে আপ্লুত, কিন্তু তৈরি হওয়া স্মৃতিগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট—আফগানিস্তানের ইংলিশ কোচ জোনাথন ট্রট বিদায় জানালেন সেই দায়িত্বকে, যা চার বছর আগে অনেকটা "কাকতালীয়ভাবে" তার কাঁধে এসেছিল। ৪৪ বছর বয়সী ট্রট এমন একটি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন, যা মূলত প্রস্তাব করা হয়েছিল তার স্বদেশী গ্রাহাম থর্পকে, কিন্তু সে সময় থর্প দায়িত্বটি নিতে পারেননি। সুপার এইটের দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার পর বৃহস্পতিবার কানাডার বিপক্ষে ৮২ রানের জয় দিয়ে আফগানিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে। সাদা বলের ক্রিকেটে আফগানিস্তানকে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে ট্রট আবেগ সামলানোর চেষ্টা করেন।

ট্রটের অধীনে আফগানিস্তান ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল এবং ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "হয়তো এটাই সঠিক সময়, হয়তো নয়। আমি জানি না, তবে আমি সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। এই সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। সত্যি বলতে, আমি এই সুযোগটা পেয়েছি অনেকটা ভাগ্যের জোরে। গ্রাহাম থর্পের কোচ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি দায়িত্বটি নিতে পারেননি।"

তিনি আরও বলেন, "এরপর আমাকে এই চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং আমি তা দুহাতে লুফে নিই। তাই আমি এখানে কাকতালীয়ভাবেই এসেছি। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমি আশা করি খেলোয়াড়রা বুঝতে পারবে খেলার প্রতি আমার ভালোবাসা এবং মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তাদের প্রতি আমার যত্ন কতটা ছিল।" দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ট্রট জানান, তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল খুব কাছ থেকে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উন্নতি দেখা।

তিনি বলেন, "...এই চাকরিতে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো মাঠের বাইরেও খেলোয়াড়দের উন্নতি দেখা এবং তাদের জীবন বদলে যেতে দেখা। শুধু মাঠেই নয়, বরং তাদের পরিবারের ভাগ্য ও জীবনযাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করাটা দেখা।" "তাই আমি মনে করি এই খেলার মাধ্যমে আমরা তা দেখতে পেরেছি এবং এতে ছোট একটি ভূমিকা রাখতে পারাটা খুবই সন্তোষজনক।"

"ক্রিকেটের কথা বাদ দিন, আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন যারা অল্পবয়সী ছেলে ছিল, তাদের ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে দেখাটা অনেক বেশি সার্থক মনে হয়," তিনি উল্লেখ করেন। গত কয়েক দিনে বা টুর্নামেন্ট চলাকালে তিনি কি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রট স্বীকার করেন, টুর্নামেন্টের মিশ্র ফলাফল তার মনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং আবেগ তার ওপর ভর করেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি সুপার ওভারের পর হৃদয়বিদারক হারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মাঝে মাঝে আমার মনে হয়েছে আমরা কিছুটা দুর্ভাগা ছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতার জন্য হয়তো আমাদের আর এক বা দুই সেন্টিমিটার দরকার ছিল।" "কে জানে, আমরা যদি সেই ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে জিতে যেতাম, অথবা সুপার ওভারেও জিততাম, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি কীভাবে খেলত।" তিনি শেষে বলেন, "...এই সুযোগের জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ এবং এ বিষয়ে আমার এটুকুই বলার আছে।"

সূত্র : এনডিটিভি

আরটিএনএন/এআই