ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলি
ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলি   ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়ানাহুয়াতোর সালামাঙ্কা শহরে একটি ফুটবল মাঠে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী ও এক শিশুসহ আরও অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সালামাঙ্কার মেয়র সিজার প্রিয়েতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল ম্যাচ চলছিল এবং ম্যাচের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি গ্যালারিতে প্রবেশ করে। কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই তারা দর্শকদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই মাঠ ও গ্যালারিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন দর্শকরা, অনেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। আহত ১২ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মেয়র সিজার প্রিয়েতো এই হামলাকে “দুর্ভাগ্যজনক ও কাপুরুষোচিত” আখ্যা দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

গুয়ানাহুয়াতো মেক্সিকোর অন্যতম শিল্পকেন্দ্র ও জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি দেশটির সবচেয়ে বিপজ্জনক রাজ্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড এই প্রদেশেই ঘটে। মাদক ও অপরাধচক্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা চলছে। এমনকি এই হামলার আগের রাতেই সালামাঙ্কা শহরে চারটি ব্যাগে মানুষের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।

গুয়ানাহুয়াতো প্রদেশের স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকো বিশ্বের সবচেয়ে অপরাধপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আর সেই মেক্সিকোর মধ্যেই সবচেয়ে সহিংস প্রদেশ হিসেবে পরিচিত গুয়ানাহুয়াতো। এখানে সক্রিয় সান্তা রোসা ডি লিমা গ্যাং ও জ্যালিস্কো নিউজ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলাও গ্যাং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত হতে পারে, যদিও কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এ বছরের শুরুতে দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালে দেশটিতে হত্যার হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং এটি তার সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ফল। তবে গুয়ানাহুয়াতোর এই রক্তক্ষয়ী হামলা সেই দাবির মাঝেই নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।