যুব এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়ন, পাকিস্তান
যুব এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান   ছবি: সংগৃহীত

মাঠের ভেতরে অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে একাধিকবার স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। এবার ডাগআউটে কোচের ভূমিকায় বসেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সেই একই তিক্ত স্বাদ দিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটে সাফল্য এবং কৌশলের বিচারে গত এক দশকের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ আবারও প্রমাণ করলেন, ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিখুঁত ফর্মুলাটি কেবল তার নখদর্পণে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ১৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে মাস্টারমাইন্ডের ভূমিকা পালন করেছেন কোচ সরফরাজ আহমেদ।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করেন পাকিস্তানি ওপেনার সামির মিনহাজ। তার উইলো থেকে আসা ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। মাত্র ১১৩ বলে খেলা এই ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও ৯টি বিশাল ছক্কার মার। মিনহাজের এই অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রানের পাহাড় গড়ে। এছাড়া আহমেদ হুসাইন ৫৬ এবং উসমান খান ৩৫ রান করে দলের বড় সংগ্রহে অবদান রাখেন। ভারতের দিপেশ দেবেন্দ্রনাথ ৩টি উইকেট নিলেও পাকিস্তানি ব্যাটারদের রুখতে ব্যর্থ হন বাকি বোলাররা।

৩৪৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানি বোলারদের তোপে পড়ে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে ভারতীয় যুবারা। আলি রাজার আগুনের গোলার মতো বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ভারতের টপ অর্ডার। মাত্র ২ রানে ওপেনার আয়ুশ এবং ২৬ রানে বৈভব সূর্যবংশী সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে ভারত। সেই চাপ আর সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৬.২ ওভারে ১৫৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন ১০ নম্বরে নামা দিপন দেবেন্দ্রন। পাকিস্তানের পক্ষে ৬.২ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন আলি রাজা। এছাড়া মোহাম্মদ সাইম, আবদুল সুবহান ও হুজাইফা আহসান প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

বিশ্লেষকরা এই জয়ের মাঝে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের প্রতিচ্ছবি দেখছেন। সাড়ে আট বছর আগে ওভালের ফাইনালে ফখর জামানের সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতকে হারিয়েছিল সরফরাজের পাকিস্তান। এবার সেই একই চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ হলো দুবাইয়ে; যেখানে ফখরের ভূমিকা নিলেন সামির মিনহাজ আর আমিরের ভূমিকায় দেখা গেল আলি রাজাকে।

উল্লেখ্য, ভারতের বিপক্ষে সরফরাজের এই জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপে। সেবার তার অধিনায়কত্বেই রোহিত শর্মা-রবীন্দ্র জাদেজাদের ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। ব্যক্তিগত ফর্ম ও বোর্ডের অন্যায্য আচরণের কারণে জাতীয় দল থেকে দূরে সরে গেলেও, কোচ হিসেবে ফিরে এসে সরফরাজ আবারও প্রমাণ করলেন—পরিস্থিতি বা ভূমিকা বদলালেও ভারতকে হারানোর কৌশলটি তিনি এখনো ভুলে যাননি।

দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তানের এই শিরোপা জয় দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে।