‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলোতে কোটি মানুষের পরিবারে সমৃদ্ধি আসবে’
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।   ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে মানুষ আরও বেশি ক্ষমতায়িত হবে এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানেও বড় পরিবর্তন আসবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান নয়। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা মেধা ও সৃজনশীলতার পাশাপাশি মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির চর্চা করবে এবং বাংলাদেশে থেকেই বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সেই লক্ষ্যেই কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, কৃষি বীমা এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি সহায়তা পাবেন। সেচ, সার, বীজ ও কৃষিকাজ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উপকরণও সহজলভ্য করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসাও সহজ করা হবে।

শিক্ষা খাত নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল, নতুন স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে স্কুলে ভর্তি ও উপস্থিতির হার বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা চিনি কল, পাটকল ও পাটজাত শিল্প চালু করা হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

প্রবাসী আয় বৈধ পথে দেশে পাঠানো সহজ করতে প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়ানোর কথা জানান।

ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা আরবি, ফ্রেঞ্চ, ম্যান্ডারিনসহ বিভিন্ন ভাষা শিখতে পারবে এবং স্কাউট, গার্লস গাইড ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণদের জন্য নীতিগত সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধীরে ধীরে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার চালু এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ব্রেন ড্রেন’ বন্ধ করে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ নিশ্চিত করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং উন্নত করতে সরকার কাজ করছে, যাতে বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।