ছাত্রলীগের ১১ পদধারী নেতা জায়গা পেলেন মমেক ছাত্রদলের কমিটিতে
ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জায়গা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে।   ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ৩২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে ছাত্রলীগের পদধারী ১১ নেতার নাম রয়েছে। এ নিয়ে দল ও দলের বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে।

মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জায়গা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত ১ মে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির স্বাক্ষরিত এই কমিটি প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে তানভীর আব্দুল্লাহকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মেহেদী হাসানকে।

তবে এই কমিটিতে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী ১১ নেতা জায়গা পেয়েছেন।

এর মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নোমান, রিজভী আহমেদ, সাদ মোহাম্মদ, নিলয় সাহা প্রয়াস, জান্নাতুল ইসলাম নাবিল, আব্দুল বাসেত শিবলু, আরাফাত হোসাইন রিফাত, জাকারিয়া আরজু, সাব্বির আহমেদ সৌরভ। এছাড়া সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন মেহেরাব হোসেন মিয়াদ ও প্রান্ত সাহা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই ১১ নেতা ছাত্রলীগের পদে ছিলেন।

এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্য সচিব মেহেদী হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে মেডিকেলের কিডনি বিভাগের প্রধান ডা. আসাদুজ্জামান রতন বলেন, “সদ্য ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতারা ঢুকে পড়েছে, বিষয়টি আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। কমিটি ঘোষণার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।”

সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান বলেন, “বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এটি দলের জন্য বুমেরাং হতে পারে। আমাদের অঙ্গসংগঠনে ত্যাগী নেতাকর্মীর অভাব নেই। তাহলে কেন ছাত্রলীগ থেকে এনে কমিটিতে রাখা হবে, তা বোধগম্য নয়।”

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ বলেন, “কেন্দ্রীয় কমিটি কমিটি ঘোষণা করেছে। তবে যেসব কমিটিতে বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র ইতোমধ্যে তথ্য পেয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সঙ্গে কথা বলে বিতর্কিতদের ডাকা হবে। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিন্দনীয়।”

এ দিকে ছাত্রদলের নবগঠিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কমিটির নেতারা।

তাদের দাবি, হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে ট্যাগ দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে তাদের অনেকেই ছাত্রলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না; বরং তারা সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। যাচাই-বাছাই করেই তাদের ছাত্রদলের কমিটিতে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলেজ ক্যান্টিনে মমেক ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কলেজটিতে প্রায় ১০০০ থেকে ১১০০ শিক্ষার্থী রয়েছে ১ম বর্ষ থেকে ৫ম বর্ষ পর্যন্ত। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী। অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হোস্টেলে থাকার সুযোগ পায়। এর বেশি শিক্ষার্থীকে অতীতে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

যাদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, তারা সবাই ৫৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ২০২৩ সালের প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার্থী হিসেবে সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচের। তারা ছাত্রলীগের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না, কিন্তু তাদের নামের পাশে পদ দিয়ে ছাত্রলীগের সীল দেওয়া হয়েছিল।

মমেক ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম অভিযোগ করেন, “পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে ছাত্রদলকে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখে ফেলা হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে মমেক ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে হলে থাকা অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, বর্তমানে মমেক ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে গুপ্তভাবে রাজনীতি করছে, কিন্তু তারা এখনো তাদের কমিটি প্রকাশ করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মমেক ছাত্রদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপসহ অন্যান্য নেতারা।