শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীতে ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা এ কে ফজলুল হক-এর স্মরণে এক স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তৃতায় বলা হয়, ব্রিটিশ আমলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে তিনি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটান।

শনিবার (২ মে) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। এতে স্মারক বক্তা ছিলেন কবি ও বুদ্ধিজীবী ইমরুল হাসান। তিনি শেরে বাংলার জীবন, রাজনীতি ও অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ইমরুল হাসান বলেন, শেরে বাংলা সরকারি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটে এবং তারা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা বরিশালে জন্মগ্রহণ করলেও কলকাতায় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশার মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনীতি করলেও তার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

বক্তৃতায় শেরে বাংলার রাজনৈতিক দক্ষতার কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, সে সময়কার নানা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের মধ্যেও তিনি সমঝোতা তৈরি করতে পারতেন। হিন্দু, মুসলমান এবং তফসিলি সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তিনি সবার নেতা হয়ে উঠেছিলেন।

ইমরুল হাসান মন্তব্য করেন, শেরে বাংলা ক্ষমতায় এসে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে মুসলমানদের অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেন। তবে ব্রিটিশ শাসনের সীমাবদ্ধতা এবং জোট সরকারের কারণে তার অনেক রাজনৈতিক লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় পাঞ্জাবি ও বাঙালির মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় শেরে বাংলা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড. আকরাম আলী, মোস্তফা আনোয়ার খান, এ কে এম রেজাউল করিম, আফজাল ওয়ার্সি, মেজর (অব.) মোহাম্মদ ইমরানসহ অন্যরা।

আয়োজকরা জানান, মুসলিম জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের পর এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের কথাও জানানো হয়।