সীমান্ত হত্যা বন্ধে পাল্টা গুলি ও আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের 
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।   ছবি: আরটিএনএন

সীমান্তে বাংলাদেশের মুসলমানদের রক্ষায় পাল্টা গুলি চালানো এবং হত্যায় জড়িত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের সদস্যদের বিচারে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী ঐতিহাসিক ‘বড়াইবাড়ী বিজয় দিবস’ উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

খোমেনী ইহসান বলেন, ভারত সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশের মুসলমানদের হত্যা করছে। এটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এথনিক ক্লিনজিংয়ের অংশ। এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে নতজানু ভূমিকা ছেড়ে পাল্টা গুলি চালাতে হবে ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিধা না করে ভারি অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ও সীমান্তে সার্বক্ষণিক ড্রোন মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি হত্যায় জড়িত বিএসএফের সদস্যদের বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে।  এ সামরিক ও আইনি উদ্যোগ ছাড়া ভারত থামবে না। 

২০০১ সালের ২১ এপ্রিল কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ী সীমান্তে মাত্র ৯ জন বিডিআর সদস্য ও গ্রামবাসী মিলে ৫৫০ জন বিএসএফ সদস্যের আগ্রাসন প্রতিহত করে।  এ সময় শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজুর রহমান ও সিপাহী আব্দুল কাদের। 

এ তিন শহীদকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ তৎকালীন বিডিআর সিও শাহরুখ জামানকে ‘বীর প্রতীক’ এবং প্রতিরোধে সম্পৃক্ত স্থানীয় নেতা ডা. সাইফুল ইসলাম লাল মিয়া ও প্রথম সংবাদদাতা মিনহাজ আলীকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দীন বলেন, বড়াইবাড়ী যুদ্ধে বাংলাদেশের গৌরব গাঁথা রচিত হয়েছে। এই যুদ্ধকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে কিভাবে দেশ রক্ষা করেছিল সাধারণ মানুষ ও বিডিআর। 

তিনি  বড়াইবাড়ী যুদ্ধের শহীদদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি, আহতদের ভাতা ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি জানান।

যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব বলেন, বড়াইবাড়ী আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রেরণা। আমাদের বীর জওয়ান ও সাধারণ জনতার প্রতিরোধের মুখে ১৮ এপ্রিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল। 

সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, বড়াইবাড়ী যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে ভারত পিলখানা ম্যাসাকারের মাধ্যমে আমাদের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করার যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা রুখে দিতে বিডিআর কাঠামো ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি।

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বর্তমান নাম ‘বিজিবি’ বদলে পূর্বের ঐতিহ্যবাহী নাম ‘বিডিআর’ পুনর্বহাল করতে হবে। ২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর ম্যাসাকারের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পুনঃবিচার করতে হবে এবং পর্দার অন্তরালের কুশীলবদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বড়াইবাড়ী বিজয় দিবস পালনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্লিপ্ততার কড়া সমালোচনা করেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যদি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা থেকে থাকে, তবে বিএনপি ও জামায়াতসহ সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির উচিত এই 'মহাপ্রতিরোধ দিবস' যথাযথভাবে পালন করা।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক দিবস উদযাপনে অনীহা দেখালে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করে দেবে যে—তারা রাজনীতির আড়ালে ভিনদেশি আধিপত্যবাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছে। মূলত দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড মুহাজির রাইটস মুভমেন্টের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ,  বিপ্লবের ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব মো. আরিফুল ইসলাম ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখার আহ্বায়ক রাকিব মণ্ডল এবং জালালুদ্দিন রুমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম ফেরদৌস প্রমুখ।