বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান   ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের রাজনৈতিক ভাবনা জানতে বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং তাদের তৃতীয় ধাপের জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে অংশ নেয়া মানুষের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাংলাদেশে আগামীর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে চান। 

এদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং ২ দশমিক ৭ শতাংশের মতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা জানেন না।

এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ীর বিষয়ে জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগামী নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। আর ভোট বণ্টনের বিষয়ে জনগণ মনে করছেন, বিএনপি ও তাদের জোট ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে এবং জামায়াত ও তাদের জোট ৩১ শতাংশ ভোটের সম্ভাবনা রাখে।

জরিপে আওয়ামী লীগ ভোটদাতাদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার এখনও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। গণভোটের বিষয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ২২ শতাংশ জানিয়েছে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

ইনোভেশন কনসাল্টিং জানায়, চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কিত ধারণা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং দলীয় পছন্দ এই ছয় বিষয়ে মতামত নেয়া হয়েছে।

পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভের তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, পূর্ববর্তী রাউন্ডে যারা জামায়াত বা এনসিপির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন, তাদের একটি অংশ এবার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন। 

উল্লেখ্য, প্রথম রাউন্ড জরিপের ফলাফল গত বছরের মার্চে এবং দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করা হয়েছিল। তৃতীয় রাউন্ডে পূর্ববর্তী রাউন্ডের অংশগ্রহণকারীদের টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জরিপটি সম্পন্ন করা হয়।