ঢাকা–১৭ আসনের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার সমস্যা জানেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। জনসভায় এক নারী ভোটারের ‘পেয়ারা চুরি করে খাওয়া’–সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে তাঁর দেওয়া পরামর্শও আলোচনায় আসে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত এ নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য শুরুর আগে মঞ্চে সাধারণ ভোটারদের ডেকে নেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যাঁরা মঞ্চে আসবেন, তাঁরা যেন এই এলাকার ভোটার হন এবং কোনো দলের কর্মী না হন।
প্রথমে মঞ্চে ওঠেন ভ্যানচালক মোহাম্মদ জুয়েল। তিনি বলেন, বেনারসি মাঠ এলাকার বস্তিবাসীদের প্রধান সমস্যা পুনর্বাসন। এ দাবি শুনে উপস্থিত জনতার মতামত জানতে চাইলে সবাই একমত প্রকাশ করেন। পরে তিনি এলাকার ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন।
এরপর কথা বলেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হেনা আক্তার। তিনি ভাষানটেক এলাকার পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সঙ্গে আশপাশের বসতিপূর্ণ এলাকার বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ও গার্মেন্টসকর্মী লিলি বেগম বলেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর দাবি জানান। এ সময় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক মা–বোনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। লিলি বেগম শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিও তোলেন।
সমাবেশে গৃহিণী শান্তা ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বিএনপির। এ জন্য নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় এক পর্যায়ে এক নারী ভোটার অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। তিনি চান, নির্বাচিত হলে তারেক রহমান যেন সেই জমি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় আরেকজন নারী বলেন, ‘আপনার গাছের অনেক পেয়ারা চুরি করে খেয়েছি।’ উত্তরে তারেক রহমান জানতে চান, তাঁর বাড়িতে জায়গা আছে কি না। জায়গা আছে জানালে তিনি বলেন, সেখানে পেয়ারা গাছ লাগাতে এবং ফল হলে তাঁকে দুটি পেয়ারা দিতে।
জনসভায় আরও দেখা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো সাজপোশাক পরা এক শিশুকে মঞ্চে ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের সঙ্গে বসবাস করেছেন। নির্বাচিত হলে ভাষানটেকসহ ঢাকা–১৭ আসনের মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!