এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু।   ছবি: সংগৃহীত

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপাররা (এসপি) সৎ ও নিরপেক্ষ হলে রাষ্ট্রের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কাজ সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মঞ্জু বলেন, আমি যখন প্রথম নির্বাচনী প্রেস কনফারেন্স করি, তখন সবাই জানতে চেয়েছিল আমি কী করব। আমি বলেছিলাম—আমি কী করব না, সেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। আমি বলেছি, ডিসি, এসপি, জজ, ওসি, ইউএনও-এদের কাজ আমি করব না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও বরাদ্দ থাকে। কিন্তু এমপিদের সুপারিশ ও হস্তক্ষেপ প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। ডিসিরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, এখানেই সমস্যা।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশে যদি কোনো এমপি না-ও থাকে, শুধু বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো যদি সৎভাবে কাজ করে ডিসি, এসপি, বিভিন্ন দপ্তর, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত তাহলে রাষ্ট্রের অন্তত ৬০–৭০ শতাংশ কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলবে।

নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রসঙ্গে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে মঞ্জু বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং একশ্রেণির মানুষের অসহযোগিতা আমাদের বাধাগ্রস্ত করেছে। 

তিনি জানান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের অভাব ও নির্বাচনী রাজনীতির বাস্তবতায় তাদেরও জোট রাজনীতিতে যেতে হয়েছে।

নতুন বন্দোবস্তের চেষ্টা আপাতত সফল না হওয়ায় সংস্কারের পক্ষে থাকা মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

নতুন রাজনীতির প্রতি সমর্থনের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, অনেকে নতুন রাজনীতিকে সমর্থন করতে চান, কিন্তু সম্পৃক্ত হওয়া বা পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। 

তিনি বলেন, এই দেশে অনেকের অভ্যাস তেলে মাথায় তেল দেওয়া। অথচ পৃথিবীর যেকোনো নতুন রাজনীতির পেছনে ত্যাগ থাকে।

নতুন সরকারের কাছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। শুধু তাত্ত্বিক সংস্কার নয়, রাস্তার মানুষদের সংস্কার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান ও দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।