৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে রবিবার শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন
৪৯৮ প্রস্তাব নিয়ে রবিবার শুরু হচ্ছে ডিসি সম্মেলন।   ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলন শেষ হবে আগামী বুধবার।

শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) হুমায়ুন কবির। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সম্মেলন উপলক্ষে আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, পর্যটন বিকাশ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ-সংক্রান্ত।

তিনি জানান, প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকেরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁদের কাছ থেকে নির্দেশনা নেবেন। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গেও কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভাও অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নেবে। কার্য-অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সিনিয়র সচিব, সচিব এবং দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

নীতিনির্ধারক এবং মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত বছর ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সেই সম্মেলনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে ৪০০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান হুমায়ুন কবির। তার ভাষ্য, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার এখন পর্যন্ত ৪৪ শতাংশ।