বাংলাদেশ-লিবিয়া সম্পর্ক জোরদারে নতুন দিগন্ত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, জাতীয়, লিবিয়া, বাংলাদেশ, শামা ওবায়েদ, লিবিয়া রাস্ট্রদূত, আব্দুলমুতালিব, সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-লিবিয়া বৈঠক,
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দুলমুতালিব এস এম সুলায়মান।   ছবি: সংগৃহীত।

বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দুলমুতালিব এস এম সুলায়মান।

সাক্ষাতে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-লিবিয়া সম্পর্কের বিদ্যমান দৃঢ় ভিত্তিকে পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে, লিবিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিবিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন সময়ে আটকে পড়া নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে লিবীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। জ্বালানি, অবকাঠামো, ওষুধশিল্প এবং জনশক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ-লিবিয়া যৌথ ব্যবসায়িক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত সুলায়মান লিবিয়ার পক্ষ থেকে জ্বালানি ও জনশক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় জোরদার এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকের শেষে রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে “ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ” হিসেবে উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।