মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর পরিস্থিতি এখন পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, বেসামরিক জাহাজে হামলার সঙ্গে জড়িত ইরানের ছয়টি নৌযান তারা ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে ইরান এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত বা উত্তেজনা দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
এ দিকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরান হামলা চালালে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারি এই অঞ্চলকে আবারও একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সর্বশেষ আরও যা ঘটল
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা গেছে, গতমাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ প্রথম সরাসরি ইরানি হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল তাদের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়া আমিরাতের ফুজাইরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের আঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এতে সেখানে কর্মরত তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আমিরাত উপকূলে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
ইরান এসব হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি বা অস্বীকার করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতের উচিত হবে না নিজেদের আবারও কোনো ‘চোরাবালিতে’ টেনে নেওয়া।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!