সামরিক মহড়া
চীনের সামরিক মহড়া শুরুর পর বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে তাইওয়ানের যুদ্ধবিমান।   ছবি: এএফপি

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অস্ত্র বিক্রির পরই তাইওয়ানের আশপাশে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, মহড়ার মাধ্যমে দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কাছে অবরোধ তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। তবে তাইপে এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক ভীতি প্রদর্শন’ আখ্যা দিয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছে।

চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এসেছে এবং দ্বীপটি দখলের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা প্রকাশ করতে কখনো কসরত করেনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র বিক্রি করেছে। এর পরপরই বেইজিং এই মহড়া শুরু করে।

চীনা সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ‘লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণ’ পরিচালিত হচ্ছে। মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং ড্রোন।

চীনের ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ কোড নামের মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও রকেট ফোর্স অংশ নিচ্ছে। ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের সিনিয়র কর্নেল শি ই জানিয়েছেন, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো সমুদ্র ও আকাশে যুদ্ধ প্রস্তুতি, যৌথভাবে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও এলাকায় অবরোধ এবং প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেওয়া।

চীনা কর্তৃপক্ষ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তাইওয়ানের চারপাশে পাঁচটি বড় এলাকা চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অতিরিক্ত লাইভ-ফায়ার কার্যক্রম চলবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট জলসীমা ও আকাশপথে অপ্রয়োজনীয় জাহাজ ও উড়োজাহাজকে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেনশিয়াল অফিসের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, চীন আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দিতে সামরিক ভীতি প্রদর্শন করছে। সোমবার তাইওয়ান উত্তর ও পূর্ব উপকূলে চারটি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ শনাক্ত করেছে।

তাইওয়ানের কোস্টগার্ড তাৎক্ষণিকভাবে বড় জাহাজ মোতায়েন করে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেনাবাহিনী একটি প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র স্থাপন করে ‘উপযুক্ত বাহিনী’ মোতায়েন ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার মহড়া চালিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের এই পদক্ষেপ তাদের আগ্রাসী চরিত্র আরও স্পষ্ট করেছে। তাইওয়ান মনে করে, আঞ্চলিক শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো চীন।

চীনের সেনা মুখপাত্র শি বলেছেন, মহড়াগুলো তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা। এগুলো চীনের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় বৈধ পদক্ষেপ। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, মহড়ার একটি মূল বিষয় হলো তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তৈরি, যার মধ্যে উত্তরের কিলুং ও দক্ষিণের কাওশিয়াং বন্দরও রয়েছে।

গত এপ্রিলে চীনের বৃহৎ সামরিক মহড়া হলেও তৎকালীন সময়ে তাইপে তা তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছিল। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ১,১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়ার পরই বেইজিং ঘোষণা দেয়, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় তারা দৃঢ় ও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।

গত সপ্তাহে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের চীনে কার্যক্রম খুব সীমিত বা প্রায় নেই বললেই চলে।