ট্রাম্প প্রণালি,মার্কিন প্রেসিডেন্ট
হরমুজ নয়, ‘ট্রাম্প প্রণালি’! বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল।   ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, হরমুজ প্রণালিকে মজা করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্বব্যাপী চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসের প্রেক্ষাপটে আসে। তিনি বলেন, "ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।" এরপর তিনি মজা করে ক্ষমা চেয়ে বলেন, "ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে আমার অভিধানে ভুল বলে কিছু নেই।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের নিজের নাম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ডিসেম্বরে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে, ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখা হচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি রসিকতা করে কেনেডি সেন্টারকে নিজের নামে ডাকার চেষ্টা করেছিলেন। মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের চিন্তা তিনি অতীতে প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প প্রণালি’ মন্তব্যও তাঁর সেই পুরনো প্রবণতারই প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, "ইরান একটি চুক্তির জন্য মিনতি করছে" এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে এসেছে, যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং এর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের এই নামকরণ বিষয়ক রসিকতা যুদ্ধের গম্ভীর পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: সিএনবিসি