ইবিতে শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর জীবনসংগ্রাম শীর্ষক আলোচনা সভা, সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী, ইবি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা, জীবনি, জীবন সংগ্রাম,
ইবিতে শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর জীবনসংগ্রাম শীর্ষক আলোচনা সভা।   ছবি: আরটিএনএন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর জীবনসংগ্রাম, আত্মশুদ্ধি ও উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ট্রেন্ডি টেবিলে শাখা বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সংগঠনটির শাখা সভাপতি কাজী আহবাব দস্তগীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি জাহিদ হাসান এবং খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ও অর্থ সম্পাদক সদরুল আমিনের যৌথ সঞ্চালনায় ‘তরিকায়ে মুহাম্মাদিয়া’-এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন সহসভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াদুদ এবং জালালাবাদ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি যুবায়ের ইসহাক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর বালাকোটের যুদ্ধ থেকে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে। একই সিদ্ধান্তে অনড় থাকাই সবসময় সমাধান নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে আগে তার সভ্যতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা হয়। আমাদের বহু ঐতিহ্য, জ্ঞানভিত্তিক কিতাব ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার রয়েছে, যেগুলো আজ অনেকাংশেই বিস্মৃত। আত্মশুদ্ধি ও উত্তরাধিকার রক্ষায় আমাদের সেগুলোর চর্চা বাড়াতে হবে। একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে উঠতে হলে সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর আদর্শ অনুসরণ জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) এবং বালাকোটের ঘটনা আমাদের জীবনের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। তার আদর্শ ধারণ করে আগামী দিনে সমাজ ও উপমহাদেশের মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে হবে।’

সভায় ‘শহীদে বালাকোট সায়্যেদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.)-এর জীবনসংগ্রাম ও উত্তরাধিকার’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ যাকারিয়া। পরে প্রচার সম্পাদক আব্দুল মুমিনের দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, সায়্যেদ আহমদ বেরলভী (রহ.) ১৭৮৬ সালে উত্তর ভারতের রায়বেরেলীর একটি প্রসিদ্ধ হাসানী সায়্যেদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৩১ সালের ৬ মে পাঞ্জাবের হাযারা জেলার বালাকোট প্রান্তরে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। তার শাহাদাতের প্রায় দুই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তার জীবন ও আদর্শ নিয়ে বাংলা, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় বহু গ্রন্থ ও গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।