রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার দাবিতে বিক্ষোভ, মূলগেটে ছাত্রদলপন্থীদের পাল্টা অবস্থান,
পাল্টা পাল্টি অবস্থানের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপকে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

আন্দোলনকারীদের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রুয়েটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিগত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ গুপ্ত ও প্রকাশ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমর্থক পরিচয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি গ্রুপ প্রশাসনিক ভবনের দিক থেকে মূল ফটকের দিকে অগ্রসর হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। পরে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। একপর্যায়ে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের পাশে অবস্থান নেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ বিন জাহিদ বলেন, “আমরা একতাবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। রাজনীতিমুক্ত রুয়েট বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” অপরদিকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী রিদওয়ান সিদ্দিকী শিক্ষার্থীদের সামনে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে মূল ফটকের পাশে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ দীপ্র বলেন, “রুয়েটে গুপ্ত রাজনীতির নানা প্রমাণ আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা উন্মুক্ত ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার অধিকার চাই এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাব।”

পরবর্তীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে যান। মিছিল চলাকালে তারা শিবির, ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ইউনিয়নসহ সব ধরনের ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন একই স্থানে টানানো রাজনীতিবিরোধী একটি ব্যানার খুলে ফেলা হয়েছিল। পরে আন্দোলনকারীরা পুনরায় সেখানে নতুন ব্যানার টাঙান।

কর্মসূচি শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ ঘটনায় রুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।