ক্যাশলেস ক্যাম্পাস দাবির দেড় বছর, রুয়েটে অটোমেশন এখনও সীমিত,
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।   ছবি: আরটিএনএন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্যাশলেস পেমেন্ট বা অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর দাবি উত্থাপনের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তীব্র গরমে যেখানে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায় সেখানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন, সেমিস্টার, ক্লিয়ারেন্স বা হল-সংক্রান্ত ফি জমা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম ছিল ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো সীমিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তাদের তত্ত্বাবধানে থাকলেও জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে কাজের গতি ধীর হয়েছে। এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব বলেন, ‘আমাদের সফটওয়্যারগুলো অনেক পুরোনো ছিল, সেগুলো আগে আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়েছে। এছাড়া থার্ড পার্টি এগ্রিমেন্টের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ‘হল অটোমেশন’ সফটওয়্যার নিয়ে কাজ চলছে। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে অনলাইন পেমেন্ট চালুর দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।’

অন্যদিকে, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর থেকে জানা গেছে, সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের তত্ত্বাবধানে ক্যাশলেস ক্যাম্পাসের অংশ হিসেবে একটি পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে। এর আওতায় স্থাপত্য বিভাগের পাঁচটি বর্ষের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর তথ্য রুপালী ব্যাংকের ‘রুপালী ক্যাশ’ অ্যাপে সংযুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সফল হলে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০০ শিক্ষার্থীকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘প্রতি সেমিস্টারের শুরুতে কোর্স রেজিস্ট্রেশন এবং শেষে ফি জমা দিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়, এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এমনকি সামান্য জরিমানা দিতেও একই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়, যা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি তৈরি করছে।’

এছাড়া অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন হলেও প্রিন্টেড কপি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় পুরোপুরি ডিজিটাল সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে কাগজ নির্ভরতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে দ্রুত, কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।