অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপে ইবির ৭ শিক্ষার্থী, ইবি, শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, অ্যাটর্নি জেনারেল,
ইন্টার্নশিপে সুযোগ পাওয়া ইবি শিক্ষর্থীরা।   ছবি: আরটিএনএন

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের নতুন ব্যাচে ২৫ জনের মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাতজন শিক্ষার্থী।

তারা হলেন—আইন বিভাগের ২০১৯–২০ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব বাবু চাকলাদার, সাকিবুর রহমান দিহান ও তন্ময় ঘোষ; এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০২০–২১ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম রক্তিম, তানভীর শরীফ রিপন, আব্দুল্লাহ আল কাফী ও লাবিবাহ।

গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় নতুন ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও বিদায়ী ব্যাচকে সনদ প্রদান করা হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এসময় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে ইউএনডিপি, নরওয়ে ও সুইডেনের প্রতিনিধি স্টিফেন মিলার, রোমানা ও উইকস উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর হালিমা খাতুনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং বার কাউন্সিলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এ সুযোগ অর্জন করেন ইবির শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের ন্যূনতম ৩.৫০ সিজিপিএ, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রার্থীদের শিক্ষানবিশ আইনজীবী হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল; কোনো অ্যাডভোকেট লাইসেন্সধারী এতে অংশ নিতে পারেননি। জীবনবৃত্তান্ত, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) ও ভিডিও প্রেজেন্টেশন যাচাই শেষে ভাইভা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ভিত্তিতে প্রায় ৮০ জন প্রার্থী থেকে চূড়ান্ত ২৫ জনকে নির্বাচন করা হয়।

ইন্টার্নশিপে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব বাবু চাকলাদার বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য গৌরবের। দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাজ করার এই সুযোগ আমার জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আইনের বিভিন্ন দিক কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাব, যা আমার ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে সহায়ক হবে।”

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিবাহ বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপ আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। এই সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতে এটি কাজে লাগাতে চাই।”