ঢাবিতে হলের নাম ঘিরে বিভ্রান্তিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা, শিক্ষা, ঢাবি, ঢাবি হলের নাম পরিবর্তন,
হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে কয়েকবার।   ছবি: আরটিএনএন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ভর্তি হতে আসা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী সরব হয়ে ওঠেন। তাদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে হলটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হতে থাকে। কখনো এটি ‘আবু সাঈদ হল’, কখনো ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’, আবার কখনো ‘মওলানা ভাসানী হল’ নামে পরিচিত করা হয়। সর্বশেষ, হলটির নাম ‘শহীদ ওসমান হাদী হল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই ঘন ঘন নাম পরিবর্তনের ফলে নতুন শিক্ষার্থীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। রংপুর থেকে ভর্তি হতে আসা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন,
“আমার ভর্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্রে হলের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান হল। কিন্তু ক্যাম্পাসে এসে দেখি ‘ওসমান হাদী হল’ লেখা। প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। পরে এক সিনিয়রের কাছ থেকে নিশ্চিত হই যে এটিই আমার নির্ধারিত হল।”

রাকিবের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অফিসিয়াল কাগজপত্রে এক নাম থাকলেও বাস্তবে হলের গেটে ও ব্যানারে ভিন্ন নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নতুনদের জন্য বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর।

এ বিষয়ে হলের ভিপি মুসলিমুর রহমান বলেন, “হলের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আমরা জানতে চাই, এই নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা যাবে কি না। তৎকালীন উপাচার্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন। পরবর্তীতে ব্যারিস্টার আমাদের জানান, হল সংসদ এই নামটি দাপ্তরিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে।”

তবে এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিভ্রান্তি কাটছে না। শিক্ষার্থীরা দ্রুত একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রত্যাশা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।