ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে গুঞ্জন: শিবির সংশ্লিষ্টদের বাদ দেওয়ার দাবি, শিক্ষা, ঢাবি ছাত্রদল,
ঢাবি ছাত্রদলের লোগো।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য কমিটিতে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা প্রকাশ পায়, যা নিয়ে সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়ে তাদের বাদ দেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন।

সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, অতীতে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা ব্যক্তিদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হলে তা ছাত্রদলের আদর্শ, ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হবে। তারা স্বচ্ছ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, “দলের ভেতর ও বাইরে অনেকের বিরুদ্ধে অতীতে অন্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে যাকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বলা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ন্যূনতম অভিযোগ থাকলেও এমন কাউকে দায়িত্বে আনা হলে তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।”

ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন বলেন, “ছাত্রদলের নিজস্ব আদর্শিক ধারা ও নেতৃত্বের ঐতিহ্য রয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা সহজেই নজরে আসে এবং সন্দেহের সৃষ্টি করে।”

কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শাকিল বলেন, “ছাত্রদলের রাজনীতি সবসময় স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য। যারা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে গোপনে অন্য কোনো আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।”

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, “গুপ্ত রাজনীতি রাজনীতির সবচেয়ে নেতিবাচক দিক। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীদেরই নেতৃত্বে আসা উচিত; অন্যথায় সংগঠন বিতর্কিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি বলেন, “একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার যে অপসংস্কৃতি, তা বন্ধ করা সময়ের দাবি। ছাত্রদলে এ ধরনের সংস্কৃতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।”

তবে সংগঠনটির অন্য অংশ মনে করছে, অতীতের চেয়ে বর্তমান অবস্থান ও আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, কেউ যদি বর্তমানে ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান, তাকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নেতৃত্বের বিবেচনায় থাকা উচিত।

এদিকে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিটি চূড়ান্ত করার আগে তৃণমূলের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং বিতর্কিত নামগুলো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন শুধু একটি সাংগঠনিক বিষয় নয়; এটি দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের আগ্রহ ও সংবেদনশীলতা দু’ই বেড়েছে।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তর্ক-বিতর্ক। এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে—তারা কীভাবে এই বিতর্ক সামাল দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করবেন, সেটিই দেখার বিষয়।