নোবিপ্রবিতে কৃষি বিভাগের ৩০ লাখ টাকার প্রজেক্টের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
নোবিপ্রবিতে কৃষি বিভাগের ৩০ লাখ টাকার প্রজেক্টের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত   ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কৃষি গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ৩০ লাখ টাকার একটি যৌথ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এবং সাউথ ইস্ট ব্যাংক পিএলসির অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মশালা গবেষণা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে ‘স্পেশাল করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ডেড প্রজেক্ট বাই সাউথ ইস্ট ব্যাংক পিএলসি’ শীর্ষক ইনসেপশন ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।

নোবিপ্রবি কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক এবং সাউথ ইস্ট ব্যাংক পিএলসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চৌমুহনী শাখার প্রধান কর্মকর্তা নূর উদ্দিন আফসার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালার শুরুতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর (পিআই) এবং কৃষি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান রুবেল। এরপর প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন কো-প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ড. পীযূষ কান্তি ঝাঁ। উপস্থাপনায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষি উন্নয়ন, মাটির গুণগত মান বিশ্লেষণ এবং কৃষকদের বাস্তব সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল সাউথ ইস্ট ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষিকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের গবেষণা প্রকল্প অত্যন্ত সময়োপযোগী। 

তিনি জানান, প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অঞ্চলের মাটির লবণাক্ততা ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে গবেষণালব্ধ জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তা বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। গবেষণা থেকে নতুন প্রযুক্তি বা পেটেন্ট উদ্ভাবিত হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণার জন্য আরও অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।