পালাতে গিয়ে জানালার রেলিংয়ে আটকা শিশু, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস,
পালাতে গিয়ে জানালার রেলিংয়ে আটকা শিশু, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস।   ছবি: আরটিএনএন

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মাদরাসার তিনতলার ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালাতে গিয়ে জানালার রেলিংয়ে আটকা পড়া ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে মতলব পৌর এলাকার ‘মারকাযুত তাকওয়া আল ইসলামিয়া মাদরাসা’ ভবনে এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম মো. ওমর ফারুক। সে ওই মাদরাসার নূরানী বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার চাপাতিয়া গ্রামের মজিবুর রহমান প্রধানের ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মাদরাসার অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন ওমর ফারুক চুপিচুপি ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। সেখান থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে সে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সরু ভেন্টিলেটর গলে বের হতে গিয়ে সে জানালার লোহার রেলিংয়ের ফাঁকে শরীরের মাঝের অংশে আটকে পড়ে। তিনতলার উচ্চতায় বিপজ্জনক অবস্থায় শিশুটিকে ঝুলে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পরপরই মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন। প্রায় ১৫ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটি তিনতলার উচ্চতায় রেলিংয়ে আটকা পড়ে ঝুলে ছিল। আমাদের একটি ইউনিট প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় তাকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’

মাদরাসার পরিচালক হাবিবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন ফারুক সবার অগোচরে পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শিশুটির মা ফারহানা আক্তার বলেন, ‘বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মাদরাসা থেকে আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়। আমার সন্তান এখন মাদরাসাতেই আছে এবং সুস্থ আছে।’

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।