আলমডাঙ্গায় জিকে ক্যানালের ব্রিজ ভেঙে ভোগান্তিতে ১৫ গ্রামের মানুষ,
ভাঙ্গা ব্রিজ।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামে জিকে ক্যানালের ওপর নির্মিত একমাত্র ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ১৫টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে আইলহাস ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে জিকে ক্যানালের ওপর ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্মাণের পর থেকে এটি অত্র এলাকার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ব্রিজটি ২০২৪ সালের জুন মাসে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।

এতে করে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল। বর্তমানে এলাকাবাসীকে উপজেলা সদর বা জেলা শহরে যাওয়ার জন্য ২ থেকে ৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সোনাতনপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান জানান, ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পরও নিরুপায় হয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায় দুই বছর আগে ব্রিজটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে কৃষিপণ্য পরিবহন ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। আরেক বাসিন্দা অজিবার জানান, প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে প্রায় ১২০টি ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করত। এখন ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভ্যান ও পাখিভ্যান চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার জিকে প্রকল্পের আওতাধীন সোনাতনপুর গ্রামের ব্রিজটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত। ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্রিজটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।