টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে নতুন নতুন অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে এবং পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও কেটে রাখা ধানও পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। এতে করে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা নেমে এসেছে কৃষকদের মধ্যে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বৃষ্টি কিছুটা কমে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও আজ শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকেই আবার বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে করে হাওরের পানি আরও বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি কেটে আনা ধান শুকাতে না পারায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ধান মাড়াই করা যাচ্ছে, না, আবার শুকানোর অভাবে চাটাইয়ের নিচে জমে থাকছে ধানের স্তূপ। ফলে কৃষকেরা একদিকে যেমন ফসল হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে কাটা ধান রক্ষাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। এ জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও হাওরের অন্তত ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অবশিষ্ট ধান এখন বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
হবিগঞ্জেও সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সেখানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে অন্তত ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জে উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলায় হাওরগুলোতে মোট ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর। শুধু ইটনা উপজেলাতেই ২ হাজার ৬০০ হেক্টর বোরো ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
নেত্রকোণাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রশাসনের হিসাবে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। কংস ও উপদাখালি নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং ফসলি জমিতে পানি ঢুকে বোরো ধান নষ্ট করে দিচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় আর্দ্র বাতাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আগামী ৫ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোণার ভুগাই-কংশ, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, মৌলভীবাজারে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলাতেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় আর্দ্র বাতাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আগামী ৫ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোণার ভুগাই-কংশ, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, মৌলভীবাজারে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলাতেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন চরম সংকটের মুখে। একদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল, অন্যদিকে কাটা ধান রক্ষার লড়াই, সবকিছু মিলিয়ে তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়ে উঠছে।
এসএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!