ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বাবা-ভাইকে হত্যা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সাইফুর রহমান সোহান।   ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে ত্রিভুজ প্রেমের জেরে বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই সাইফুর রহমান সোহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ।

জানা যায়, গত রোববার ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানার উত্তর বনমালা এলাকায় নিজ ঘর থেকে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭) এবং পাশের রেললাইন থেকে তাঁর বাবা সোহেল রানার (৫০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সোহেল রানার বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও সোহানের আচরণ পর্যালোচনা করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে সোমবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন সোহান। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও মামলার সূত্র বলছে, সোহানের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তবে ছোট ভাই সাকিবুর রহমানের সঙ্গেও ওই তরুণীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে সোহান ছোট ভাই সাকিবের ওপর হামলা চালান। পরে বিষয়টি বাবা দেখে ফেললে তাঁকেও বাড়ি থেকে বের করে রেললাইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দুজন ব্যক্তিকে একজনকে ধরে রেললাইনের দিকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, সোহেল রানার মৃত্যু ট্রেনে কাটা পড়ে নাকি পরিকল্পিত হত্যার অংশ—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

নিহত সাকিবুর রহমান ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এক খালাতো বোনকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা ছিল। তবে প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।