সরকারি কলেজে ভর্তিচ্ছু ছাত্রদের সহায়তায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির, ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষর্থীদের সহায়তায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির,
পানি ও তথ্য দিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষর্থীদের সহায়তা করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।   ছবি: আরটিএনএন

ভ্যাপসা গরম আর দুশ্চিন্তার ভাঁজ কপালে নিয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রবেশমুখে হাজির হয়েছিলেন হাজারো পরীক্ষার্থী। কিন্তু ক্যাম্পাসে পা রাখতেই এক স্নিগ্ধ চিত্র চোখে পড়লো। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ভর্তিচ্ছু তিন হাজার শিক্ষার্থীর সেবায় একযোগে কাজ করছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার সময় শৃঙ্খলার সাথে তথ্য প্রদান থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের হাতে পানি, কলম ও শুকনো খাবার তুলে দিয়ে নজর কেড়েছেন এই দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই 'সহাবস্থান' এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। 

ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর শাখা সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ বলেন, ‘মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই পরিবেশ ছাত্র রাজনীতির প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনবে।’

অন্যদিকে, মানবিক আবেদনের জায়গা থেকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিদ আহসান চৌধুরী নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তারা যেন পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।’

সাধারণত ভর্তি পরীক্ষার দিনে ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিবেশ বা আধিপত্য বিস্তারের লড়াই দেখা গেলেও এবারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। 

এক অভিভাবক বলেন, ‘নিজের আসন খুঁজতে গিয়ে আমার ছেলেটা খুব নার্ভাস ছিল, কিন্তু ছাত্র ভাইদের আন্তরিকতায় সে হাসিমুখে হলে ঢুকতে পেরেছে। এটাই তো হওয়ার কথা ছিল।’

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের এই 'সৌহার্দ্যের মডেল' সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোর জন্য একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।