ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ, সরকারি কোনো কর্মসূচি নেই।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ, সরকারি কোনো কর্মসূচি নেই।   ছবি: আরটিএনএন

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান মুজিবনগর) আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ দিনই বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন রাষ্ট্র। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই সরকারের নেতৃত্বেই অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

প্রতি বছর দিনটি সরকারিভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর অস্থায়ী সরকারের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সংশ্লিষ্টরা।

১৬ এপ্রিল তৎকালীন এসডিও তৌফিক-ই-এলাহীর নির্দেশনায় সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। ওই রাতেই পুরো আম্রকানন ভারতীয় সেনাদের দ্বারা ঘিরে ফেলা হয়। পরদিন সকালে বৈদ্যনাথতলায় উপস্থিত হন জাতীয় চার নেতা। সেখানে দেশি-বিদেশি বহু সাংবাদিকের উপস্থিতিতে তাঁরা শপথ গ্রহণ করেন এবং ১২ জন আনসার সদস্য গার্ড অব অনার প্রদান করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেতৃবৃন্দ ভারতে গমন করেন।

দিবসটি পালন নিয়ে মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম বলেন, ’সরকার থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা আসেনি। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকেও ১৭ এপ্রিল উপলক্ষে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।’

জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ’এখন পর্যন্ত মুজিবনগর দিবস পালনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নির্দেশনা পেলে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। নির্দেশনা না এলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে না।’