ময়মনসিংহে এমপি ও বিএনপি নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, সারাদেশ, সংসদ সদস্যের উপরে হামলা, বিএনপি, খেলাফত মজলিস, সরকার,
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ।   ছবি: আরটিএনএন

তারাকান্দায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদানে বাধা এবং তার সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে রক্তাক্ত ও জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি পরাজিত বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও তার সমর্থকদের দায়ী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাকে হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে তার নেতাকর্মীরা তাকে জড়িয়ে ধরে নিরাপদে সরিয়ে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারাকান্দায় দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করে। মিছিল শেষে ফেরার পথে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, এতে ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি বিএনপির সঙ্গে সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিরূপ আচরণ করছেন এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাকে নিজ সংসদীয় এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা অতীতে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও সহমর্মিতার দেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু এ ধরনের হিংসাত্মক আচরণের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে এসব হুমকি-ধমকি থেকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সারোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ ফারুকী, ফুলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগকে অবান্তর ও ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতারা।

বুধবার বিকেলে একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, সেদিন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং সেখানে বিএনপি বা তার কোনো অনুসারী উপস্থিত ছিলেন না।

তিনি বলেন, একজন কর্মীর রক্তাক্ত হওয়ার বিষয়ে দাবি করা হয়েছে, তবে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে নাটক সাজানো হয়েছে। “মুরগির রক্ত জামায় মেখে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে,”—বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীরা পরাজিতদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেও এখানে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। “আমাকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে, আমি কি রাজনীতি ছেড়ে দেব, নাকি এলাকা ছাড়ব?”—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আব্দুল বাতেন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ইসমাইল, উত্তর জেলা তাঁতী দলের সদস্য আজিজুল হক, রওনক আহমেদ আজিজুলসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।