হাম
ময়মনসিংহে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি।   ছবি: আরটিএনএন

শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে ময়মনসিংহে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নগরীর চুরখাই ইসলামিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনেই কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (সদর) উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহমেদ শাফি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাজাহান কবির। এছাড়াও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শরিফুল ইসলাম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খন্দকার মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের প্রকোপ এবং শিশুমৃত্যুর খবরে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। মাইকিং শুনে সকাল থেকেই কেন্দ্রে সন্তানদের নিয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা। টিকা দিতে পেরে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

টিকাদান কেন্দ্রে আসা এক অভিভাবক বলেন, "টিভিতে আর পেপারে দেখছিলাম অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টিকা দিতে পেরে মনে একটু শান্তি পেলাম।"

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহমেদ শাফি জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। জেলার তিনটি উপজেলায় (সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর) মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাম প্রতিরোধে এই তড়িৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

এদিকে হামের প্রকোপ এখনো চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।