তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড।   ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। তীব্র এই তাপে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই মাঝারি তাপপ্রবাহে জেলায় নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে। ঋতুর শুরুতেই আগুনের রূপ ধারণ করেছে প্রকৃতি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ চড়েছে আকাশচুম্বী। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা দুই ডিগিরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। 

তীব্র রোদে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে শহরের তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক চালককে অসুস্থ বোধ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সংলগ্ন রাস্তাসহ শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে নরম হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় গলে যাওয়া পিচ চাকার টায়ারে লেপ্টে যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় নিচ থেকে আসা তপ্ত তাপে পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন।

শহরের মোটরসাইকেল চালক সুমন হোসেন বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে তেলের সংকট, অন্যদিকে এই ভয়াবহ গরম—দুটো মিলে আমরা দিশেহারা।”

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় শীত ও গরম সব সময়ই বেশি থাকে। কিন্তু এখনো গরমের পূর্ণ মৌসুম শুরুই হয়নি, এরই মধ্যে যেভাবে রাস্তার পিচ গলছে, তাতে সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা ভেবেই আমরা আতঙ্কিত।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠেকেছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। তীব্র এই দাবদাহে চিকিৎসকরা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।