পাবনার বিএনপি নেতা কাজী খোকন ও স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততা ও চাঁদাবাজি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনা জানাজানি হলে দুজনই মাদক সম্পৃক্ততাকে অস্বীকার করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন। প্রথম চ্যালেঞ্জটি গত শনিবার দিয়েছেন কাজী খোকন।
তার দেওয়া চ্যালেঞ্জের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মারধরের শিকার হারুন অর রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কেউ মাদকের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মহরমখালি গ্রামে নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চ্যালেঞ্জ করেন হারুন। তিনি ওই গ্রামের মৃত আরশেদ আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী বলে দাবি করেন।
এর আগে গত শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা কাজী খোকন নিজের বিরুদ্ধে হারুনের তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে যদি আমার কোনো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি রাজনীতি তো দূরে থাক, আত্মহত্যা করবো।’
চাটমোহর রেলবাজারে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। কাজী খোকন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের খবির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী খোকন অভিযোগ করেন, ‘হারুন একজন মাদক কারবারী। এছাড়া সে বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে অনেকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। ‘ডলার’ নামে এক যুবককে দিয়ে সে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করাতো। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। ডলার তার টাকা ফেরত চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের কাছে শরনাপন্ন হয়েছে। এলাকার মানুষ হিসেবে সমাধানের জন্য গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় হারুনকে ডেকে টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে কিছু মারধর করা হয়। সেই ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে হারুন সাংবাদিকদের কাছে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তুলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে।’
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘ডলার নামে যে ছেলের কথা খোকন বলেছেন, তাকে আমি ঠিকমতো চিনি না। তার কাছ থেকে কোনোদিন কোনো টাকা নিইনি। এগুলো সব মিথ্যা। আমাকে ইয়াবা ডিলার বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তারও কোনো ভিত্তি নেই। এলাকার মানুষ যাচাই-বাছাই করলে দেখবেন কোনো প্রমাণ নেই। যদি মাদকের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান, আমি নিজেই আত্মহত্যা করবো।’
হারুন আরও বলেন, ‘খোকনের সহযোগী রুবেল ও ডলার আমার কাছে টাকা চেয়েছে। ৫০ হাজার টাকা দিতে বারবার চাপ সৃষ্টি করেছে। আমি বলেছি, আমার কাছে কোনো টাকা নেই। তারা বারবার টাকা দাবি করেছে। না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রেলস্টেশন এলাকায় চা পান করার সময় আমাদের দুই ভাইকে টেনে হিঁচড়ে অফিসে নিয়ে গিয়ে খোকন মারধর করেছে। এখন নিজে বাঁচার জন্য আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে হারুনের ছোট ভাই প্রবাসী আইয়ুব আলী বলেন, ‘তাদের আমার ভাইয়ের কাছে কোনো টাকা পাবার সুযোগ নেই। এগুলো সব ভাওতাবাজি। মূল ঘটনা হলো, আমি হারুনের ছোট ভাই, বিদেশ থেকে আসছি, আমার কাছে টাকা আছে, গাড়ি কিনেছি। এটা দেখে তারা আমার বড় ভাইকে হেনস্তা করছে। তাদের কাছে লিগ্যাল কোনো রাস্তা নেই। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার চাই। যদি আমরা দোষী হই, যেকোনো সাজা মাথা পেতে নেব।’
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!