লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৯ জন দালালের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা আসামি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার (৩০ মার্চ) গভীর রাতে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান এবং দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান পৃথকভাবে এসব মামলা দায়ের করেন।
জগন্নাথপুর থানায় দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন- ছাতক উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের দুলাল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের আজিজুল ইসলাম, বিলাল মিয়া (প্রধান আসামি), জসিম মিয়া এবং এনাম মিয়া।
অন্যদিকে, দিরাই থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে- জগদল গ্রামের ইতালি প্রবাসী ছালেহ আহমদ, মজলিসপুরের মিখাইল মিয়া, দোয়ারাবাজারের জসিম এবং জগদলের মুজিবুর রহমানকে।
মামলার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এসআর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের সুবাদে তার পরিচয় হয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে। পরে তাদের প্রলোভনে গ্রিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দালাল চক্রের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১১ লাখ টাকা প্রদান করে গত জানুয়ারিতে লিবিয়া যান আমিনুর।
গত ২৮ মার্চ অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন জগন্নাথপুরের ৫ জনসহ মোট ৪৫ জন (৩৮ বাংলাদেশি)। টানা ৫ থেকে ৬ দিন সাগরে অবস্থানকালে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে জগন্নাথপুরের ৫ জনসহ মোট ১৮ বাংলাদেশি মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী হাবিবুর রহমান জানান, মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনায় তার ছেলে লিবিয়ায় গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মামলায় নিহত আরও কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষী করা হয়েছে এবং অভিযোগ করা হয়েছে, দালাল চক্র প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা করে নিয়েছে।
একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ তুলে দিরাই থানায় দায়ের করা মামলায় নিহত সোহানুর রহমানের পরিবারও ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, নিহতদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!