ময়মনসিংহে হাম বাড়ছে, দুই সপ্তাহে পাঁচ শিশুর মৃত্যু, সারাদেশ, ময়মনসিংহ, হাম, শিশুর মৃত্যু,
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত তিন দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ও রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১৩ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।

তবে রোববার (২৯ মার্চ) হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৬৮ জন আক্রান্ত শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাম রোগীদের চিকিৎসায় তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন এবং আক্রান্ত শিশুদের জন্য ৬৪ শয্যার আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ বিভাগের ১৫৭ জন রোগী সন্দেহজনকভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৪ জনের ল্যাব পরীক্ষার পর ৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

গত শনিবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ছয় মাস বয়সী শিশু নুরুন্নবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া ২৭ মার্চ দুপুরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের সাত মাস বয়সী ছেলে লিয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়। লিয়নের বাবা জানান, ঈদের আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল সে। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলার ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি কক্ষে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গত দুই সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কক্ষগুলোতেও জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগী মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে ৬৪ শয্যার আলাদা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের স্বজনরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে ঠান্ডা-জ্বর ভেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে যমজ সন্তান নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক দম্পতি জানান, সময়মতো টিকা না দেওয়ায় তাদের সন্তানরা হামে আক্রান্ত হয়েছে।

হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ডা. গোলাম মওলা বলেন, ‘ভর্তিকৃত শিশুদের মধ্যে কেউ টিকা নিয়েছে, কেউ নেয়নি। তবে চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। নির্ধারিত কর্নার থাকলেও সেখানে রোগীর জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, ‘হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে এবং রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।