লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানি সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এর মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। বাকিরা সুদানের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানান।
নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলারই ১০জন রয়েছেন বলে জানিয়েছে জীবিতরা। এবং দিরাই উপজেলার চারজন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মারা যাওয়া চারজন হলেন: মো. নুরুজ্জামান সরদার (ময়না, বয়স ৩০), সাজিদুর রহমান (বয়স ২৮), সাহান এহিয়া (বয়স ২৫) এবং মুজিবুর রহমান (বয়স ৩৮)।
শনিবার বিকেলে তাদের পরিবার এই মর্মান্তিক খবরটি পায়। বোটে থাকা একজন বেঁচে থাকা যাত্রী- গ্রামের আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ (২৫) ফোনে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। রোহান জানান, বোটে খাবার ও পানির অভাব ছিল, যার ফলে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে মারা যান ।
এই চারজনই দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকা করে দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তাদের যাত্রা শুরু হয় এবং লিবিয়া পৌঁছানোর পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না, অবশেষে রোহান ফোনে মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন।
এদিকে,সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।
শনিবার রাতে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গেল ৬ মার্চ তিনি গ্রিসে পৌঁছান। বর্তমানে তিনি ওই ক্যাম্পে রয়েছেন যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মারা যান। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রে জানা গেছে, তারা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের বোটে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ছয়দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং ১ জন চাদের নাগরিকের অবস্থা এখন ভালো। তাদের মধ্যে দুইজনকে ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ ও অসুস্থদের উদ্ধারের পর গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার টোব্রুক বন্দর থেকে ছেড়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ডের মুখপাত্র। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং খাবার ও পানির অভাবই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার এই পথগুলো অনেকেই বেছে নেন, কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের জীবন বিপন্ন হয়। জীবন রক্ষাকারী সংস্থাগুলি বারবার অবৈধ অভিবাসন বিরোধিতা করে আসছে, যদিও এমন দালাল চক্র অনেকটাই সক্রিয় রয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!