গুচ্ছ ভর্তি, ইবি
ইবিতে ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক।    ছবি: আরটিএনএন

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল হেল্প ডেস্ক ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতাকর্মীরা ফুল, পানি, কলম, স্যালাইন, ওষুধ ও ফাইলসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করছেন।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র শনাক্ত করে দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থাসহ নানা সেবা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি ইউসুফ আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে হেল্প ডেস্ক থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের রুম ও ভবন চিনিয়ে দেওয়া, দিকনির্দেশনা প্রদান, খাবার ও পানির ব্যবস্থা, চকলেট, টিস্যু ও কলম সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা ও সময় কাটানোর জন্য কিছু বইও রাখা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ও ব্যাগ নিরাপদে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপকারে আসবে এবং তাদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তথ্য সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা হয়। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা পরীক্ষার্থীদের জন্য কলম, ফুল, স্যালাইন, জরুরি ওষুধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য বিশ্রাম ও নাস্তার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতির অংশ হিসেবে তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তারা কাজ করছেন। পরীক্ষার্থীদের ব্যাগ, মোবাইলসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী নিরাপদে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরাও। ফরিদপুর থেকে আসা এক অভিভাবক জানান, হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ছাত্রসংগঠনগুলোর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তাদের এ ধরনের কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।