জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মযাত্রা শুরু করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম কর্মসূচি হিসেবে দুপুর ১২টায় রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ভাই-বোনদের গণকবর জিয়ারত করা হয়। এ সময় শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
দিনের তৃতীয় কর্মসূচিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীর কবর জিয়ারত করা হয়। সেখানে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা।
এসময় আ ন ম আয়াস বলেন, শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি তাঁদের রাজনৈতিক ও নৈতিক অঙ্গীকারের প্রকাশ। যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে কথা বলার অধিকার অর্জিত হয়েছে, তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই পথ চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা ক্ষমতার স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগকে যেন দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে তাঁরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সংলাপের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসডিএফ সেই ঐক্য, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক সমঝোতার দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন থেকে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথে এগিয়ে যাবেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলভি নাবিল হোসেন (শহীদ সোহেল রানার ভাই), সহ-মুখপাত্র শারমিন আক্তার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন ফরাজী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ডা. মুফতি আদম আলী, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. তামিম হাসানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষার সর্বোত্তম পথ হলো তাঁদের স্বপ্নের একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই ঐক্য, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনা করবে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!