৬ হাজার ড্রাইভার নেবে দুবাই, খরচ লাখের মধ্যে রাখার অনুরোধ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে চলতি বছর নতুন করে ৬ হাজার ট্যাক্সি ও লিমোজিন ড্রাইভার নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি। তবে বিশেষ বিবেচনায় এই অভিবাসন খরচ কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

রবিবার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠকে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিতে বর্তমানে ৮ হাজার বাংলাদেশি চালক কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশি চালকরা কর্মঠ স্বভাবের হওয়ায় চলতি বছর আরও ৬ হাজার চালক নেবে দুবাই।

প্রতিনিধি দলটি আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ হাজার ৫০০ চালক বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতেও কর্মী নিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী দুবাই যাওয়ার পর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাদেরকে বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রতিষ্ঠানটিকে অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে তিনি চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে 'ডাক্তার ও নার্সদের মতো হোয়াইট কলার' বা পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্য প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে একজন ড্রাইভারের দুবাই যেতে বর্তমানে অনেক টাকা খরচ হয়। এই কর্মীরা অত্যন্ত দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ, যারা অনেক কষ্ট করে বা ঋণ নিয়ে এই অর্থ সংস্থান করেন। তাই তাদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে এই অভিবাসন খরচ কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

তারা জানান, ড্রাইভার ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক হিসেবে কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানিতে কর্মী পাঠানোর একমাত্র অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে 'আল আনাস ওভারসিজ'। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।