আইএলও’র স্বীকৃতি পায়নি বেস্টিনেট
আইএলও’র স্বীকৃতি পায়নি বেস্টিনেট।   ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কেন্দ্রীয় পদ্ধতি ‘এফডব্লিউসিএমএস’ নিয়ে বেস্টিনেটের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আইএলও। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল যে তাদের এই সিস্টেম জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত, তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এমন কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।

সোমবার (১১ মে) সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এই পদ্ধতিটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। ২০১৭ সালে প্ল্যাটফর্মটি যে পুরস্কার পেয়েছিল, সেটি মূলত ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নিউ মিডিয়া’ নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দিয়েছিল।
 
পুরস্কারটি জাতিসংঘের একটি শীর্ষ সম্মেলনে প্রদান করা হলেও তা কোনোভাবেই বিশ্ব সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিফলন নয় বলে আইএলও নিশ্চিত করেছে।
 
বেস্টিনেটের আইনি প্রতিনিধি সংস্থা ‘লুই অ্যান্ড ভুলার’ দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের ওই পুরস্কার এফডব্লিউসিএমএস-এর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ এবং এর কাঠামো আইএলও ও আইওএম-এর নীতিমালা অনুসরণ করে তৈরি। তবে আইএলও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং পুরস্কারটি কোনোভাবেই জাতিসংঘের সমর্থনের ইঙ্গিত দেয় না।
 
সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারপ্রাপ্তি আর জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এক বিষয় নয়।
 
২০১২ সালে আইএলও’র ব্যাংকক আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ইতিবাচক সুপারিশ পাওয়ার যে দাবি বেস্টিনেট করেছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছতা এনেছে সংস্থাটি। আইএলও জানায়, তারা ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল সিস্টেমটি সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ব্রিফিং গ্রহণ করেছিল। সে সময় তারা প্রস্তাবনাটিকে ‘উদ্ভাবনী ও ব্যাপক’ বলে মন্তব্য করলেও, এর অর্থ এই নয় যে তারা বেস্টিনেট কোম্পানি বা তাদের পরবর্তী কার্যক্রমকে ঢালাওভাবে সমর্থন করেছে।
 
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, তাদের মন্তব্য ছিল শুধুমাত্র প্রাথমিক ধারণাগত প্রস্তাবনার ওপর এর বাস্তবায়ন বা পরিচালনার ওপর নয়।
 
এদিকে, বেস্টিনেটের তথ্যের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আপত্তির মুখে মালয়েশিয়া সরকার চাপের মুখে পড়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো এই চুক্তিকে ‘ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া এটি অনুমোদনের সমালোচনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই কনসেশন স্থগিত করে একটি স্বতন্ত্র পর্যালোচনার জন্য পুত্রজায়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
এই বিতর্কের ফলে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।