প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের পছন্দের পোস্টিং বা পদোন্নতির চিন্তার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পদে, যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পছন্দের জায়গায় পদায়নের মানসিকতা প্রশাসনে অপেশাদারিত্ব ও দুর্নীতির প্রবণতা বাড়াতে পারে।
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য স্থায়ী নয়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি থাকলে প্রশাসনে পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন সরকারের প্রধান সেতুবন্ধ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছিল। তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকারের বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানীসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জনপ্রশাসনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা আইনি জটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে জনস্বার্থে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে প্রবেশ করেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জনপ্রশাসনকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার তাগিদ দেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত বাজার তদারকির নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সার-বীজের সহজলভ্যতা ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি, বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নজর রাখতে হবে। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক, প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক স্বীকৃতিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এতে সামাজিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থই সবার আগে। জাতীয় ঐক্যকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর সফলতা কামনা করেন এবং সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!